‘Man is a Rational animal’- কতটা Rational আর কতটা animal?

07e66edaf3be16b8fb063a2243e0b409
image courtesy: http://www.pinterest.com

মানুষের জীবনে বুদ্ধির স্থান কতটা? কটা প্রশ্নের জবাব দিতে পেরেছে সে আজ পর্যন্ত? কটা সমস্যার সমাধান করেছে সে?

দর্শনশাস্ত্রের পাতায় Rational animal বলে নিজের পরিচয় দিয়েছি আমরা। ছোট থেকে শুনেছি, এটাই নাকি আমাদের বৈশিষ্ট্য। সমগ্র জীব-জগতে মানুষ যে শ্রেষ্টত্বের দাবি করে, তার মুলেও শুনি তার ঐ Rationalism. সেজন্যে গর্ববোধ করতে চান করুন। কিন্তু একথা অস্বীকার করি কিভাবে যে, আমাদের মধ্যে যতটুকু Rational তার অনেক বেশি animal সত্তা বিরাজমান?

জ্ঞান নিয়ে গর্ব করা মানুষ এই সহজ সত্যটা মেনে নিতে লজ্জাবোধ করে। বুদ্ধিজীবী বলে তার অহংকারের অন্ত নেই। ন্যায়শাস্ত্রের ধরাবাঁধা নিয়ম দিয়ে সে বাঁধতে চায় তার দৈনন্দিন কর্মধারা। কিন্তু যখন জীবনে ঝড় ওঠে, তখন কোথায় থাকে তার এই যুক্তিবাদ? শতছিন্ন হয়ে যায় তার হিসেবনিকেশের জটিল সূত্র। সেদিন যে তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়, সে তার মস্তিষ্ক নয়, সে হলো তার হৃদয়-যার রহস্যময় ভাষার কোনো আভিধানিক অর্থ নেই, কোনো থিওরির কাঠামোতে তাকে বাঁধা যায় না।

হয়তো অনেকে বলবেন, বিজ্ঞান তো আমাদের বলেছে যে হৃদয় শুধু রক্ত-চালনার একটি অঙ্গ বিশেষ, তার তো ভাবনা কিংবা বিচার বিবেচনার ক্ষমতা নেই। তাহলে বলতে হয়, আবহমানকাল থেকে এই ‘মনের কথা শোনো’, ‘Follow your heart’ ইত্যাদি উক্তি গুলো কিন্তু metaphor মাত্র।

হৃদয়, মন এগুলো বোধয় আমাদের মস্তিষ্কের সেই অংশের দিকে ইঙ্গিত করে যেটা এই যুক্তিবাদের মায়াজালের বন্ধন থেকে মুক্ত। তাই বলে analytical brain কে ত্যাগ করে শুধু impulsive brain এর ওপর নির্ভর হওয়া মূর্খতা।

তবে মানুষ যে শুধু যুক্তিবাদী জীব নয় তার প্রমান দেওয়া দরকার, এবং তার চেষ্টাও আমি করবো… বাকি বিচার নাহয় পাঠকরাই করে নেবেন।

  • সাম্প্রতিক social media তে সাহিত্যিক শোভা দে মধ্য প্রদেশ পুলিশের এক কর্মীর দৈহিক গঠন নিয়ে কিছু উক্তি করেছিলেন, লোকটির ছবি দেখে আমার ও যে কৌতুক রস জাগেনি তা একদমই নয় ( অতটা ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ আমি নই, এটা স্বীকার করার সৎসাহস আমার আছে) যখন মাথায় এইসব হাসির ফোয়ারা বিরাজমান, তখন আমার rationality বোধয় ছুটি নিয়েছিল। শুধু আমি কেন এরকম প্রায় সবার সাথেই হয়েছিল। পরবর্তীকালে জানা যায় ওই লোকটি এক বিশেষ শারীরিক রোগে আক্রান্ত এবং তার চিকিৎসা চলছে। বাস্তবটা জানতে পেরে, অবশ্য আর হাসি পাবার জো ছিল না কারণ তখন যুক্তিবাদী মস্তিক মহাশয় ছুটি থেকে ফিরে এসেছিলেন।

[সুদু এই লোকটি কেন, রোজ রাস্তা-ঘাটে এরম অনেক লোকই আমাদের চোখে পড়ে, যারা আমাদের সুকুমার রায়ের ‘আবোল-তাবোল’এর একটি বিশেষ চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা তাদের নিয়ে ঠাট্টা করি, মজা করি কিন্তু একবারও যুক্তি প্রয়োগ করি না।

যুক্তি টা সহজ হলেও তখন ঠিক মাথায় আসেনা, বোধয় সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকে আলাদা বানিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনে সেই ‘আলাদা’টা কে চট করে মেনে নেবার মতো বুদ্ধি দিতে পারেন নি। এখানে হয়ত আমরা সবাই এক।]

  • দ্বিতীয় প্রমানস্বরূপ একটু নিজের বন্ধু মহলে তাকাই, শুধু আমার নয় পাঠকরা এরম অনেককেই চিনে থাকবেন, যাদের দামী জিনিসের প্রতি অকৃষ্টতা। তাদের কাছে সামান্য দোকানের চা/কফি থেকে CCD বা Barista বেশি প্রিয়। আমি আজও এর পিছনে যুক্তি আবিষ্কার করতে অক্ষম, তাবলে এটা নয় যে আমি আমার বন্ধুদের ত্যাগ করে একা একা ছোট দোকানে চা সেবন করে চম্পট দি। এরসাথেই যোগ করা আবশ্যক হয়ে পরে, আমাদের আরেক বিচিত্র স্বভাব। আমি অনেকবার লক্ষ করেছি, কোনো জিনিষের সাথে free বা বিনামূল্যে কিছু থাকলে আমরা তার মাত্রাধিক দাম দিতে প্রস্তুত থাকি (লুকিয়ে লাভ নেই ছেলেবেলায় কম-বেশি সবাই আমরা বাবা মায়ের কাছে আবদার করেছি, এই free gift এর জন্য)

[আমার প্রশ্ন একটাই, status maintain এর জন্য অত্যাধিক অর্থব্যয় করাটা কতটা rational?]

  • আরেকটি উদাহরণ হলো ভয়, প্রথমতঃ ভয় অনুভূতিটি বিপদের মুখে বুদ্ধিমত্তা বলেই মনে করি আমি। বিপদে একজন ভয় পেয়ে এমন কিছু অভিনব ভেবে ও করে ফেলে যেটা হয়তো সে স্বাভাবিক অবস্থায় করতে পারতো না। কিন্তু আপত্তিটা হলো অপরের ভয়কে নিজের ভয় বলে rationalize করে নেওয়া। অশরীরীর ভয় থেকে দেবতার প্রকোপের ভয় এই ভয়গুলো যেভাবে সমাজের মজ্জায় ঢুকে গেছে, তা সত্যি উদ্বিগ্নজনক।
  • শুরুতেই আওড়েছিলাম যে মানুষ rational animal বটে, তবে animal সত্তাটি এখনও রয়ে গেছে। যারা টিভিতে animal planet দেখেন তারা নিশ্চয় লক্ষ করে থাকবেন যে, পশু-জগতে এলাকা নিয়ে সংঘর্ষ একটি দৈনন্দিন বিষয়। টিভি না দেখলেও পাড়ার কুকুররাও এই বিষয়টি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, অপরিচিত কোনো কুকুরের আগমন হলেই, নিজের এলাকা রক্ষার্থে মরিয়া হয়ে তারা লড়াই করে। মানুষও তাই, নিজেরদের প্রাণিজগতের সর্বোচ্চ সৃষ্টি ভেবে যতই গর্ব করি (এমনকি অনেক সময়, আমরা ওপর এক মানুষকে অপমান করার জন্য এই প্রাণিজগতের কিছু বিশেষ প্রাণীর শাবক বলে যতই গালমন্দ করি না কেন!), সেই মিল কিন্তু রয়েই গেছে। এলাকা দখল, তার জন্য হাজার মানুষ মরেছে, মরছে এবং মরবে। প্রাথমিক ভাবে এটা কিন্তু এতজনের যুদ্ধ হয়না, যুদ্ধ ঘোষণা করে একজন নেতা ক্রমে তার অনুসরণকারীরা ভাগ নেয় সেই সংঘর্ষে। তাহলে এটাই আমার প্রশ্ন, যে এই যুদ্ধে ভাগ নেওয়াটা কতটা rational?

[আজকাল খবরেরকাগজ খুললেই সন্ত্রাসবাদের খবর চোখে পরে, বলা বাহুল্য সন্ত্রাসবাদে যে ব্যক্তিটি গুলি চালায় বা আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ করে সে শুধুমাত্র একজন মানুষ যে তার নেতার নির্দেশ মেনে কাজ করছে। তাহলে মানুষ যদি rational হয়, এই ব্যক্তি বিশেষের rationality কোথায় থাকে যখন সে হাজার নিষ্পাপ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়?]


এইভাবে মানুষের irrational দিকটা তুলে ধরতে গেলে এরম অনেক উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। তবে তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমি না নিয়ে কিছুটা পাঠকদের দিলাম, চলতে ফিরতে এরম অনেক কিছুই আমাদের চোখে পড়ে যেটা হয়তো যুক্তিবাদী নয়। সেরকম কিছু ঘটনা যদি comments- এ আমাদের সাথে ভাগ করেন তাহলে ব্যাপারটা বেশ উপভোগ্য হয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s